দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নরসিংদী আদালত প্রাঙ্গণ থেকে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে জিম্মি রেখে মারধর এবং মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিত মাসুদ রানা বাবুলকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তাকে মুক্তি দিতে পরিবারের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে এক লাখ ১৮ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী লিখন তালুকদার নরসিংদী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন। তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং ঢাকার একটি কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ী।
মামলার আসামিরা হলেন মাসুদ রানা বাবুল, তার ভাই কামাল সরকার, কামাল ভূঁইয়া, আবু হানিফ সজিব, ইনসান, শরীফ ও মোশারফ হোসেন। মামলার পরও প্রধান আসামি মাসুদ রানা বাবুলকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত বুধবার চেক-সংক্রান্ত একটি মামলায় হাজিরা দিতে নরসিংদী আদালতে যান লিখন তালুকদার ও তার বন্ধু শাকিল খান। আদালত থেকে বের হওয়ার সময় মাসুদ রানা বাবুলের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ। সেখানে তাকে মারধর করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার মোবাইল ফোন থেকে স্ত্রী সায়মা শাহীন রিয়াকে কল করে নির্যাতনের শব্দ শোনানো হয় এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। পরে তার স্ত্রী অভিযুক্তদের দেওয়া ছয়টি বিকাশ নম্বরে মোট এক লাখ ১৮ হাজার টাকা পাঠানোর পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি পুলিশকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখন তালুকদার দাবি করেন, মুক্তি পাওয়ার পর তিনি নরসিংদী সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে অভিযুক্তদের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, মাসুদ রানা বাবুল দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন নামে পেজ ও আইডি পরিচালনা করে ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, আইনজীবী, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও বিভিন্ন পেশার মানুষকে হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় করে আসছেন। এছাড়া তিনি নিজেকে ‘মাদকবিরোধী আন্দোলন’ নরসিংদী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, ওই সংগঠনের নাম ব্যবহার করেও তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করতেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযুক্ত মাসুদ রানা বাবুলের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
নরসিংদীর পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এমএম/